দীপংকরেরা–সন্মাত্রানন্দ

Published by admin on

“আমার নাম দীপংকর। দীপংকর শ্রীজ্ঞান নয়, দীপংকর কুণ্ডু”– ফোনের ওদিকে অচেনা নম্বর থেকে হাসির শব্দ। আমি কী বলব, বুঝতে পারছিলাম না। সামলে নিয়ে বললাম, “আপনাকে তো ঠিক…”

“চিনতে পারার কথাও নয়। আমি কলেজ স্ট্রীটে ধানসিড়ির স্টল থেকে আপনার নম্বরটা জোগাড় করেছি। আমি একজন বই-বিক্রেতা।”

“কোথায় আপনার দোকান?”

“দোকান নয়, আমি ট্রেনে ট্রেনে বই বিক্রি করি।”

“আচ্ছা, কোন লাইনে?”

“শ্যামনগরে আমার ডেরা। ওখান থেকে মেইন লাইনে বই বিক্রি করি। আপনার বই বেশ বিক্রি করেছি ট্রেনে। গত এক সপ্তাহে দশ কপি ট্রেনেই গেছে। বেশ চাহিদা আপনার বইয়ের।”

“আপনি কি বইটা…?”

“না, আমি পড়িনি। আমার মা পড়েছেন। খুব ভাল লেগেছে। আমিও পড়ব একদিন সময় করে। বুঝতেই পারছেন, এমন ব্যস্ত থাকি দিনভোর…”

“বুঝেছি। এখন কোথা থেকে…”

“কলেজ স্ট্রীট থেকেই। এই আবার কিনলাম আপনার ‘নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা’ দুই কপি। আগেরবারের স্টক ফুরিয়েছে।”

“দীপংকর, আপনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। আমিও রাখব। আপনার সঙ্গে কথা বলতে খুব ভাল লাগছে। এটাই আপনার নাম্বার?”

“হ্যাঁ, সেভ করবেন। আপনার সঙ্গে আমার দেখা করারও খুব ইচ্ছে। আসলে ট্রেনগুলোর সময় এমন বেয়াড়া যে, আমি একদম সময় পাই না নিজের জন্যে…”

ফোন কেটে গেল। চুপচাপ বসে রইলাম কিছুক্ষণ। মনে হল, আর কোনো রিভিউ, কোনো প্রশংসার আমার প্রয়োজন নেই। আমি তার খোঁজ পেয়েছি। দীপংকরের সঙ্গে নিশ্চয়ই কোনোদিন বিকেলের ট্রেনে দেখা হয়ে যাবে আমার। দীপংকর অতীশের সঙ্গে নয়, দীপংকর কুণ্ডুর সঙ্গে। কেননা, আমার সামান্য বইটির মাধ্যমে এগারোশো বছর আগের সেই দীপংকর এখন আজকের দীপংকরদের সঙ্গে যুক্ত, জ্ঞান ও বৈরাগ্যের আদর্শের সূত্রে নয়, তাদের প্রতিদিনকার ভাত-রুটি রোজগারের সুকঠিন তাড়নায়।

Categories: Goddo

0 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *