Description
অ্যাকোয়ারিয়ামের মতো বন্ধ বাক্সে মানুষ সাঁতার কাটছে বছরের-পর-বছর। কাছাকাছি আসছে, দূরত্ব রাখছে। জলে সবুজ অ্যালগি ধরে। মাছের গায়ে ফাঙ্গাস গজায়। কাছের মানুষ আপনা-আপনি দূরে সরে যায়। চলতে থাকে তিন বা চারজনের সংক্ষিপ্ত ইউনিট। ভাইবোনেরা, শ্বশুরবাড়ির পরিজন, যার নাম এখন ‘এক্সটেন্ডেড পরিবার’, থাকে অন্য জলে। অন্য অ্যাকোয়ারিয়ামে। একই সময়ে একইসঙ্গে ভাসে। জল সময়ে সময়ে দূষিত হয়, ফাঙ্গাস জন্মায়। খালি চোখে ধরা পড়ে না। সরাসরি অন্যকে আক্রান্ত করে না, আবার করেও। শোভনের অন্যমনস্কতা, বাবুলের বেদনা, এসব ফাঙ্গাসও লিপিকাকে দুর্বল করে ফেলে।








Cdg –
ভাল লাগল।
H.S.Datta (verified owner) –
লাল নীল পেন্সিল” – শ্রীমতি শ্রাবণী দাশগুপ্তের লেখা দ্বিতীয় উপন্যাস। এইমাত্র পড়ে শেষ করলাম। গতকাল রাতে শুরু করেছিলাম। আজ বিকেল পাঁচটায় শেষ হল। আজকাল আমার একমাত্র চোখটির সামনে ফ্লোটার্সের সংখ্যা বেড়েছে। তাই থামতে হচ্ছিল বার বার। তবে মোটের ওপর না নাবিয়ে, টানাই পড়ে গেলাম।
প্রথমেই লেখক মহোদয়াকে জানাই – আপনি এক অদ্ভুত মন খারাপ করে দেবার মত, অত্যন্ত মূল্যবান একটি হৃদয় ছোঁওয়া কাহিনী শোনালেন। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এবং কুডোস।
এবারে আমি যেমন ভাবে দেখলাম সেইটে বলি। যদি অমত করেন, কোনও অসুবিধা আমার নেই – কিন্তু আমার ভাবা বা দেখাই যে চূড়ান্ত তা নয়, সেটাও সত্য। তাই আপনিও মনের ভিতরে কিছু রাখবেন না।
উপন্যাসের মূল চরিত্র দুজনই। শোভন আর লিপিকা। এই উপন্যাস নারীবাদী। তাতে ঢোঁক গেলার বা কুণ্ঠিত হবার কোন অবকাশ নেই। লিপিকা এক বিরাট মহিরুহ সম, মাতা,পত্নী,মাসিমণি এবং সবার উপরে এক শক্তিশালী আধুনিক নারী। এই বিরাট বৃক্ষের শিকড়ে জল সিঞ্চন হয়েছে, কখনও কখনও – যা বাবুল বা মাম্পি করেছে। শেষে উর্বী করছে।
শোভনকে দেখে চমকে উঠেছি। নিজেকে কোনদিন কোন প্রতিষ্ঠিত লেখকের কল্পনায় হুবহু দেখতে পাব, ভাবি নি। ‘ফিজিকাল টাচ’ অনেকটা সাহায্য করে – এই কথাটা মনে গেঁথে থাকল। বর্তমান নেই, ভবিষ্যত নেই, কিন্তু এক্কা গাড়িতে কোচোয়ানের দিকে পিঠ করে বসে যেমন পার হয়ে যায় বারাণসীর ঘাট, মঠগুলি, রাস্তার সাধু বাবারা – আমি ঢুকে যেতে থাকি পিছন দিকে ফেলে আসা জীবনের অলি গলিতে- এ একদমই আমার চরিত্র। যেদিন থেকে অবসর নিয়েছি – সেদিন থেকেই প্রায় আমার মনের মগজের উলটো পথে সময় যাত্রা শুরু হয়ে গেছিল। আজ এখন, ‘লাল নীল পেন্সিলের’ পাতায় পাতায় তার বিস্তার আর পরিণতি তাই আমাকে যথেষ্ঠ তৃপ্ত করল। যদি শোভনের মত আমারও একই ভাবে ফিরে যাওয়াটা ঘটে। তবে রোহন শিল্পী ছিল- তার হয়ত ঈশ্বরের দরবারে, একটা হক ছিল। যাই হোক বই নিয়ে বলতে বসে, সেটাকে আত্মমুখী করাটা নিয়ম বহির্ভুত এবং দৃষ্টিকটু। সামলে উঠতে সময় লাগবে। দোষ বলে ধরবেন না।
আমি আপনার মত লেখক নই। বুঝে নেবেন। সাটল কথা বুঝতে পারার অলৌকিক ক্ষমতা, আপনার লেখাতেই প্রকাশ পায়।
‘সলোমনের’ মৃত্যু আর তার সৎকার অতি সুন্দর লিখেছেন। চোখে জল চলে এল। তাকে দেখিনি, কিন্তু পরিষ্কার তার জলের স্রোতে ভেসে যাওয়াটা অনুভব করলাম।
এত চরিত্র, এত ঘটনা – কিন্তু মূল মেলাঙ্কলির সুর বা মূর্চ্ছনা কোথাও বিঘ্নিত হয় নি। এই সুরটাই বইটাকে নামাতে দেয় না। দেবে না। সার্থক আপনার কলম। সার্থক আপনার সাধনা।
এই উপন্যাসটির জন্য আপনাকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ভাল থাকুন। আরোও লিখুন। আমরা পড়ি আর মুগ্ধ হই।
২১০৮২৬
রাজপুর- সোনারপুর
নির্বানা বাংলোজ
Shanta Bhattacharya –
(প্রসঙ্গ *লাল নীল পেনসিল*)
“তোর ঝর ঝরে ভাষায় কাহিনী তরতর করে এগিয়েছে। অ্যাকুরিয়্যামের এত বিস্তৃত বর্ণনা এবং রূপক হিসাবে ব্যবহার খুব মন ছুঁয়ে গেল রে শ্রাবণী…। জীবনের প্রতিফলন যে ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জলজ প্রাণীদের ওঠানামায় আর জীবনের ঘেরা টোপে আটকে থাকা মানুষ ও আ্যকুরিয়্যামের কাঁচের দেওয়ালে বন্দী মাছেরা কোথায় যেন একই তা তুই সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছিস।
Madhumita Mitra (verified owner) –
চমৎকার উপন্যাস…মধ্যবিত্ত জীবনের নানান বুনোট…পারিবারিক সম্পর্ক গুলোর বিভিন্ন সমীকরণ ঘটনাবলী র প্রবাহ সব মিলিয়ে ভীষণ বাস্তব,প্রাসঙ্গিক এবং খুব ইনটেরস্টিং ও… একবার ধরলে ছাড়া মুশকিল।শেষ করেই উঠতে হয়..
Kalyani Sengupta –
অনেকদিন বাদে এমন একটি লেখা পড়লাম। লেখাটি ভীষণ প্রাণবন্ত সাবলীল ও চরিত্রগুলো একদম জীবন্ত। মনে হচ্ছে আমার চোখের সামনে ওরা চলাফেরা করছে। লেখিকা এত সুন্দরভাবে শেষ করেছেন আমি অভিভূত। লেখিকাকে অনেক ধন্যবাদ এইরকম একটি লেখা উপহার দেওয়ার জন্য। কল্যাণী সেনগুপ্ত।
Manjuri Chattopadhyay –
এই উপন্যাস আর পাঁচটা উপন্যাসের থেকে একটু অন্যরকম। প্রথম থেকেই উপন্যাস চলছিল এক অদ্ভুত suspense এর মধ্যে দিয়েই। শুধুই যেন শেষের অপেক্ষা। কিন্তু উপন্যাসের শেষ দিকে যাওয়ার আগেই বহু চরিত্রের সমাবেশ, লেখিকা অদ্ভুতভাবেই প্রতিটি চরিত্রকে বিশ্লেষণ করতে করতেই তাঁর সমগ্র উপন্যাসের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই চলেছেন। কখনোই উপন্যাসের চরিত্রের ভারে খেই হারিয়ে ফেলেননি। অদ্ভুত এক আকর্ষণীয় রেশ টেনে নিয়েই চলেছেন শেষ পর্যন্ত। তথাকথিত উপন্যাসের মতো পাঠকের চাহিদা.পূর্ণ না করে এক সুন্দর সমাপ্তি রেখা টানেন। দারুণ লাগল, লেখিকা মন ভালো করে দেওয়া লেখা উপহার দিলেন পাঠককে — এক টানটান উত্তেজনার শেষও করলেন।